দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরার শ্রীপুরে ঘুমন্ত স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. রাব্বি মন্ডল (৩২) ওই গ্রামের মো. নজরুল মন্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় বালু ব্যবসায়ী। তার পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৭) পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাব্বি মন্ডল ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জেরে শুক্রবার ভোরে নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাব্বির গলা কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ফারজানার বাবা ফয়জার ফোন করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান। খবর পেয়ে রাব্বির বাবা বাড়িতে গিয়ে ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার পর ফারজানা আক্তার শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে যান বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দাও জব্দ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা নজরুল মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, রাব্বি ১০ থেকে ১২ দিন আগে শ্বশুরবাড়ি আমতৈল গ্রামে গিয়েছিল। সেখানে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারজানা আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এমএস/